হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

সারা বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু লোকজনের কাছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি একটি স্বপ্ন। এটি একটি বেসরকারি গবেষণাধর্মী ইউনিভার্সিটি। ১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটিটি আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে অবস্থিত।। বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। হার্ভার্ডের ইতিহাস, প্রভাব এবং সম্পদের প্রাচুর্য প্রতিষ্ঠানটি সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত এনে দিয়েছে।
জন হার্ভার্ডের নামে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটিটি ১৯০০ সালে অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইউনিভার্সিটিজের সদস্যপদ লাভ করে।
প্রতিষ্ঠানটিতে ১১টি একাডেমিক ইউনিট রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসটি ২১০ একর স্থানজুড়ে হার্ভার্ড ইয়ার্ড ক্যামব্রিজে অবস্থিত। বিজনেস স্কুল এবং অ্যাটলেটিকসের সব সুবিধা নিয়ে গঠিত হার্ভার্ড স্টেডিয়ামটি চার্লস নদীর তীরে অ্যালসটন এবং মেডিকেল ডেন্টাল ও পাবলিক হেলথ স্কুলটি লংউড মেডিকেল এলাকায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই। এনসিএএ ডিভিশন এবং আইভি লিগে ৪১টি কলেজিয়েট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ক্রীড়াজগতে সব সময়ই ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রতিদ্বন্দ্বী বলে বিবেচিত। প্রতি দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে খেলার জের ধরে ইয়েল এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে।
সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এই ইউনিভার্সিটি আমেরিকায় নারী শিক্ষার অগ্রপথিক। দ্য হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি সিস্টেমটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উইডেনার লাইব্রেরি যা হার্ভার্ড ইয়ার্ডে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি লাইব্রেরির সমন্বয়ে গঠিত। যাতে ১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১৫ লাখ বইয়ের ভলিউম সংরক্ষিত আছে। আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের সূত্র মতে, এটি আমেরিকার সর্ববৃহৎ একাডেমিক লাইব্রেরি এবং বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ লাইব্রেরি।

আমেরিকার সাতজন প্রেসিডেন্ট এ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এ ইউনিভার্সিটির ৭৫ জন নোবেল লরিয়েটস রয়েছেন। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ৬২ জন জীবিত ধনকুবের এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০১৩ সালের Reputation Ranking অনুযায়ী খ্যাতিমান বিদ্যাপীঠ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি রয়েছে এক নম্বর স্থানে। এই তালিকায় রয়েছে ১০০টি ইউনিভার্সিটি যার মাঝে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিই আছে ৪০টি। এই তালিকার ভিত্তি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতি, যেটা পরিমাপ করা হয়ে থাকে অ্যাকাডেমিক রেপুটেশন জরিপের মাধ্যমে। প্রতি বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল। টাইমস হায়ার এডুকেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এই ইমেইলটি আসলে একটি আমন্ত্রণপত্র,যাতে এই জরিপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। এই তালিকায় হার্ভার্ডের পরই আছে যথাক্রমে ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউশন অফ টেকনোলোজি এবং ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি চলে এসেছে চতুর্থ স্থানে। পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় এবার স্থান করে নিয়েছে একটি এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ও, আর তা হলো জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও। শীর্ষ ১০০-র মাঝে যুক্তরাজ্যের ৯টি এবং অস্ট্রেলিয়ার ৬টি ইউনিভার্সিটি স্থান পেয়েছে।

No comments yet.

-যা কিছু বলার-